Home ওজন কমানোর জন্য শরীরের ওজন কমানোর ব্যাপারে প্রচলিত “কুসংস্কার” !

শরীরের ওজন কমানোর ব্যাপারে প্রচলিত “কুসংস্কার” !

0

সত্যি কথা বলতে কী, ইন্টারনেটে বা আমাদের নিজেদের মধ্যে ওজন কমানো নিয়ে অনেক ভিত্তিহীন পরামর্শ, “কুসংস্কার” প্রচলিত আছে। এগুলোর পেছনে হয় কোনো প্রমাণ নেই অথবা এগুলো কাজই করে না। ওজন কমানোর কিছু বৈজ্ঞানিক উপায় আছে সত্যি, কিন্তু এসব “কুসংস্কার” আসলে একেবারেই অবৈজ্ঞানিক। এগুলো অনুসরণ করলেই ওজন কমে যাবে এমনটা আশা না করাই ভালো। দেখে নিন এমনই কতোগুলো অকেজো পরামর্শ।

১) সব ক্যালোরি এক

vagetable vs meatগরুর মাংস থেকে পাওয়া ২০০ ক্যালোরি আর সবজি থেকে পাওয়া ২০০ ক্যালোরিকে সমান ধরাটা বিরাট ভুল। এর পাশাপাশি আপনাকে ক্যালোরির উৎসটাও চিন্তা করতে হবে। একেক ধরণের খাবার শরীরে একেকভাবে প্রসেসড হয়। এগুলোর প্রভাব পড়ে ওজনের ওপরে। প্রোটিন থেকে ক্যালোরি নিলে মেটাবলিজম বাড়ে, কমে ওজন। অন্যদিকে প্রসেসড ফুডের তুলনায় হোল ফুড থেকে ক্যালোরি নিলে পেট বেশিক্ষণ ভরা থাকে।

২) ওজন ক্রমাগত কমানো দরকার

একই ধারা বজায় রেখে ওজন কমবে এমন আশা করবেন না। কখনো আপনার ওজন কমবে। কখনো আবার একটু বাড়তেও পারে। এটা একেবারেই স্বাভাবিক। যেমন পিরিয়ডের সময়ে মেয়েদের শরীরে পানি জমে ওজন বাড়ে। কিন্তু এমন ওঠানামার পরেও যদি ওজন ধীরে ধীরে কমতে থাকে, তাহলেই আপনি নিজেকে ওজন কমাতে সফল বলে ধরে নিতে পারেন।

৩) ওষুধ ওজন কমাতে পারে

happy-runnersওজন কমানোর অসংখ্য ওষুধ খুঁজে পাওয়া যাবে। এদের প্রস্তুতকারক দাবি করবে এগুলো ভীষণ কার্যকরী। কিন্তু গবেষণায় দেখা যায় এদের কার্যকারিতা নেই বা খুবই কম। কিন্তু কারও কারও ক্ষেত্রে এগুলো কাজ করে, একমাত্র কারণ হলো প্লাসিবো। অর্থাৎ সেই মানুষটি ওষুধ খেয়ে আশা করছে তার ওজন কমে যাবে এবং শুধুমাত্র এই মানসিকতার কারণেই তার কিছু ওজন কমে যেতে পারে। কিছু কিছু সাপ্লিমেন্টের কারণে কয়েক মাসে অল্প কয়েক পাউন্ড ওজন কমতে পারে কিন্তু এর বেশি নয়।

৪) ইচ্ছে থাকলেই ওজন কমে

না, অনেক ওবিস মানুষ ইচ্ছে করলেই ওজন কমাতে পারেন না। ওবেসিটি একটি জটিল সমস্যা যার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। এবং তারা অনেক সময়ে ওজন কমালেও তা আবার বেড়ে যেতে পারে। তারমানে এই নয় যে তারা চেষ্টা করবেন না। চেষ্টা করবেন অবশ্যই। কিন্তু ইচ্ছে থাকলেই কমবে এতো সহজে বলে দেওয়া ঠিক নয়।

৫) কম খান, বেশি ব্যায়াম করুন

এই উপদেশ মেনে যারা ওজন কমান, তাদের বেশীরভাগেরই আবার ওজন বেড়ে যায়। এই উপদেশ আসলেই কাজ করে না।

৬) শর্করা খেলে ওজন বাড়ে

কম শর্করা আছে এমন খাদ্যভ্যাসে ওজন কমে, এটা গবেষণা থেকে পাওয়া সত্যি। যখন শর্করা কম খেয়ে প্রোটিন বেশি খাওয়া হয় তখন ওজন কমতে দেখা যায়। কিন্তু তারমানে এই নয় যে শর্করা খেলেই ওজন বাড়বে। রিফাইন্ড শর্করা, যেমন ময়দা এবং চিনি হলো ওজন বাড়ার পেছনে মূল হোতা। কিন্তু হোল গ্রেইন জাতীয় শর্করা আসলে খুবই স্বাস্থ্যকর।

৭) ফ্যাট খেলে ওজন বাড়ে

ক্যলোরি গ্রহণের নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকলে ফ্যাট খেলে কোনো সমস্যা নেই। এছাড়াও বেশ কিছু গবেষণায় দেখা যায় কম শর্করা কিন্তু বেশি ফ্যাটের কিছু ডায়েটে ওজন কমে। অনেক বেশি পরিমাণে ফ্যাট, শর্করা, ক্যালোরি, জাঙ্ক ফুড একসাথে থাকলে আপনার ওজন বাড়বে বটে। কিন্তু তারমানে এই নয় যে বেশি ফ্যাট মানেই খারাপ।

৮) ওজন কমাতে ব্রেকফাস্ট ছাড়া জরুরী

গবেষণায় দেখা যায় যারা সকালে ব্রেকফাস্ট বাদ দেন তাদের ওজন বাড়ে। কিন্তু এটা হতে পারে সেসব মানুষের দৈনন্দিন অন্যান্য অভ্যাসের কারণে। আপনার যদি ইচ্ছে করে তাহলে ব্রেকফাস্ট খাবেন অবশ্যই। কিন্তু ওজনের ওপরে এর প্রভাব থাকবেই, এমন আশা করবেন না।

৯) ডায়েট আসলেই কাজ করে

গবেষণায় দেখা যায় ডায়েট আসলে লম্বা সময়ের জন্য কার্যকর হয় না বেশীরভাগ ক্ষেত্রে। ৮৫% মানুষ আবার মোটা হয়ে যান। বরং আপনার উচিত নিজের জীবন চর্চায় স্থায়ী, উপকারী কিছু পরিবর্তন আনা যা আপনাকে সবসময় সুস্থ রাখবে।

১০) মোটা মানুষ অসুস্থ, চিকন মানুষ সুস্থ

শরীরটা মোটা বলেই তার কোনো সমস্যা আছে, আর ছিপছিপে শরীর বলেই যে তিনি সুস্থ এটা পুরোই ভুল।এটা ঠিক যে ওবেসিটি থাকলে তাদের টাইপ টু ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। কিন্তু কিন্তু এমনও অনেক মানুষ আছেন যারা মোটাসোটা হলেও পুরোপুরি সুস্থ। আর রোগা এমন অনেক মানুষ আছেন যাদের কোনো ক্রনিক রোগের কারণে তাদের ওজন কম।

obese-man-before-after-medical-intervention

১১) “ডায়েট” খাবার ওজন কমাতে সাহায্য করে

যেমন ডায়েট কোক, পেপসি, লো ফ্যাট খাবার, ফ্যাট ফ্রি খাবার ইত্যাদি। এগুলোতে বিশ্বাস করলে ভুল করবেন আপনি। সফট ড্রিঙ্ক আসলে ডায়েট হতে পারে না।

Builder_21 শরীর নামক যন্ত্রটা সম্পর্কে জানতে চাই এবং জানাতে চেষ্টা করি

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *